Loading

ফুটবল বিশ্বকাপে কুরাসাওয়কে খুব একটা বেশি আলোচনায় ধরেননি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তারা যে বড় দলকে বেগ দিতে পারবে সেটা ভাবতে পারেননি কেউ। কিন্তু কুরাসাও সেটা করে দেখিয়েছে। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭ গোল খাওয়ার পরেও ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে দারুণভাবে কামব্যাক করেছে তারা। গোলকিপার এলয় রুম রেকর্ড গড়েছেন। তাদের এই পারফরম্যান্সের নেপথ্যে শুধু ভালো খেলাই নয়, রয়েছে আরও এক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুরাসাও জাতীয় দলের চিকিৎসক সুজান হুরম্যান।

Romantic photo collage featuring a couple sharing affectionate moments at a tropical resort and an elegant restaurant setting, with warm lighting, palm trees, and a soft blended background designed for a featured image or thumbnail.
ভালো ছন্দে কুরাসাও দল

মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তারা মাঠের বাইরে অভিনব সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছে। বিশ্বকাপের বেশিরভাগ দলেই খেলোয়াড়দের পরিবারকে দলীয় হোটেল থেকে দূরে রাখা হয়। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মনোযোগ ধরে রাখতে ফুটবলারদের সাধারণত সতীর্থদের সঙ্গেই থাকতে হয়। কিন্তু কুরাসাও এই প্রচলিত নিয়ম ভেঙেছে।

দলের ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের অনুমতিতে কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা আমেরিকার বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজেদের সঙ্গী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একই হোটেলে থাকতে পারছেন।

এই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রবক্তা সুজান হুরম্যান। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র মহিলা দলীয় চিকিৎসক হিসেবে তিনিও বিশেষ নজর কেড়েছেন। হুরম্যানের মতে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে পরিবারকে কাছে পাওয়া ফুটবলারদের মানসিকভাবে অনেক বেশি স্বস্তি দেয়। তিনি বলেন, পরিবার ও প্রিয়জনরা সঙ্গে থাকলে খেলোয়াড়রা কম হোমসিক হন এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

যাযাবর থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে, চিনে নিন ইরানের হিরো আলিরেজ়াকে

হুরম্যান বলেন, ‘খেলোয়াড়রা চাইলে সতীর্থদের সঙ্গে একই ঘরে থাকতে পারে। আবার যাদের পরিবার বা সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, কুরাসাওয়ের সংস্কৃতি অত্যন্ত পরিবারকেন্দ্রিক। সেই সংস্কৃতির প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে জাতীয় দলের পরিবেশে।

হুরম্যানের ভাষায়, ‘হ্যাঁ, আমি মনে করি পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা ও দাম্পত্য সম্পর্ক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সেটা শারীরিকের চেয়ে মানসিক দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এত দীর্ঘ টুর্নামেন্টে পরিবারকে কাছে পেলে খেলোয়াড়দের উদ্বেগ কমে এবং তারা অনেক বেশি স্বাভাবিক থাকতে পারে। পরিবারের সঙ্গে থাকার ফলে প্লেয়াররা ম্যাচের আগে সঙ্গীনীর সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত হয়ে মানসিক দিক থেকে ফুরফুরে থাকতে পারেন।’

See also  Free AI Video Generator: Transforming Text into Stunning Videos Effortlessly
‘৪০ ঘণ্টা রাস্তায় কাটিয়েছে, বিশ্রাম পাইনি’, বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ ইরান কোচের

কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশন খেলোয়াড়দের পরিবারের যাতায়াত ও থাকার খরচও বহন করছে। কারণ দলের অনেক ফুটবলার বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবে খেলেন না। ফলে পরিবারের পক্ষে দীর্ঘ সময় আমেরিকায় থাকা আর্থিকভাবে কঠিন। হুরম্যানের মতে, এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে। অনেক ফুটবলারের পরিবার দূরে থাকলে তারা মানসিক দিক থেকে ভেঙে পড়তে পারেন।

বিশ্বকাপে কুরাসাও এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছে। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ০-০ ড্র করে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি। সেই ম্যাচে গোলরক্ষক এলয় রুম ১৫টি সেভ করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েন। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হারতে হয়েছে কুরাসাওকে।

তবুও কুরাসাওয়ের জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই এক বিশাল সাফল্য। আর সেই অভিযানের আড়ালে দলের মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন চিকিৎসক সুজান হুরম্যান, যিনি এখন বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার অন্যতম নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *